Dhaka , Monday, 14 September 2026
শিরোনাম :
রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে তন্ত্র-মন্ত্র নয়, কৌশলেই ৩০ বছর ধরে সাপ ধরছেন শামছু কচুয়ায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন, প্রথম ম্যাচেই ৫-১ গোলে জয় ঢাকার টপ ছিনতাইকারী আলামীনকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।। তিন শতাধিক বাস, হাজারো যাত্রী,বেহাল টার্মিনালে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মহিলাদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটে আলোচনা সভা বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ মাছ-সবজির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা, এখন আলুর ভরসায় ধুঁকছে বাগেরহাটের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

ইউটিউব দেখে তরমুজ চাষ, প্রথম বছরেই বাজিমাত জাকিরের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 07:48:01 pm, Tuesday, 1 September 2026
  • 29 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি

চারপাশজুড়ে মাছের ঘের। সেই ঘেরের পাশেই দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল ৪০ শতক অনাবাদি জমি। একসময় যেখানে ছিল শুধু আগাছা আর অনুর্বরতার চিহ্ন, এখন সেখানেই চোখজুড়ানো সবুজের সমারোহ। লতানো গাছে ঝুলছে সারি সারি ছোট-বড় তরমুজ। শুধু তরমুজ নয়, জমির বিভিন্ন অংশে চাষ করা হচ্ছে কাঁচামরিচ, ওলকচু, উন্নত জাতের পেঁপে, টমেটোসহ নানা ধরনের পরীক্ষামূলক ফসল। অনাবাদি সেই জমিকে ঘিরেই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছেন বাগেরহাটের তরুণ উদ্যোক্তা মো. জাকির হোসেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জমিতে একের পর এক নতুন ফসলের পরীক্ষা চালিয়ে তিনি গড়ে তুলছেন সম্ভাবনাময় একটি কৃষি উদ্যোগ। এই সবুজ আবাদই এখন তাঁর চোখে দেখাচ্ছে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন স্বপ্ন। বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের বটতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিন জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। ‘স্মার্ট বয়’, ‘সূর্য ডিম’ ও ‘কার্নিয়া’ জাতের তরমুজ চাষ করে প্রথম বছরেই পেয়েছেন আশানুরূপ ফলন। তার খেতের ফলন ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ ভিড় করছেন। এতে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও তরমুজ চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, প্রায় ৪০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি তরমুজের চারা রোপণ করেছেন জাকির। প্রতিটি গাছে দুটি করে ফল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি তরমুজ উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। তবে উন্নতমানের ও আকারে বড় ফল নিশ্চিত করতে গাছে অতিরিক্ত ফল দেখা দিলে তা অপসারণ করা হবে।

উদ্যোক্তা মোঃ জাকির হোসেন বলেন,আমি শহরে ব্যবসা করি। ব্যবসার পাশাপাশি বেমরতা বটতলা বাজার এলাকায় আমার একটি মাছের ঘের রয়েছে। ঘেরের পাশে প্রায় ৪০ শতক জমি ফাঁকা পড়ে ছিল। জমিটি কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই ইউটিউব দেখে তরমুজ চাষের ধারণা নিই। পরে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে সেখানে স্মার্ট বয়, সূর্য ডিম ও কার্নিয়া জাতের তরমুজ চাষ করি। নিয়মিত পরিচর্যায় আশানুরূপ ফলন পেয়েছি। তিনি বলেন,তিন জাতের তরমুজই বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। প্রথম বছর হিসেবে ফলন ভালো হয়েছে। চাষ থেকে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি। আমার খেত দেখে এলাকার অনেকেই তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে এ অঞ্চলে তরমুজ চাষ আরও বাড়ানো সম্ভব। তিনি আরো ও বলেন,তরমুজের পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চারপাশে কাঁচামরিচ, ওলকচু, উন্নত জাতের পেঁপে, টমেটোসহ আরও কয়েক ধরনের ফসল পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছেন জাকির। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

খেত দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,জাকির ভাইয়ের তরমুজের খেত দেখে ভালো লেগেছে। আমাদের এলাকায় এভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। জমি নির্বাচন, পরিচর্যা ও চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে আগামী মৌসুমে আমিও তরমুজ চাষ করার কথা ভাবছি।তরমুজের খেত দেখতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মিলন শেখ বলেন,তরমুজগুলো আকারে সুন্দর এবং দেখতে আকর্ষণীয়। ফলন ভালো হলে স্থানীয় বাজারেই এগুলোর চাহিদা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এ সময়ে বাজারে তরমুজের সরবরাহ কম থাকায় ভালো মানের তরমুজ পাওয়া গেলে কৃষক ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই লাভবান হবেন। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মোতাহার হোসেন বলেন,পতিত ও অব্যবহৃত জমিকে কৃষির আওতায় এনে বহুমুখী উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষকের আয়ও বাড়বে। মাছের ঘেরের পাশাপাশি ফাঁকা জমিতে জাকির হোসেনের তরমুজ চাষের উদ্যোগটি সম্ভাবনাময়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে এ ধরনের আবাদ আরও সম্প্রসারণে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখব। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জাকির হোসেনের পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগ সফল হলে বেমরতা ও আশপাশের এলাকায় অনাবাদি জমিতে তরমুজ চাষ বাড়বে। মাছের ঘেরের পাশাপাশি তরমুজ, সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের বাড়তি আয়ের নতুন দুয়ার খুলবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

khan

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে

ইউটিউব দেখে তরমুজ চাষ, প্রথম বছরেই বাজিমাত জাকিরের

আপডেট টাইম : 07:48:01 pm, Tuesday, 1 September 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি

চারপাশজুড়ে মাছের ঘের। সেই ঘেরের পাশেই দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল ৪০ শতক অনাবাদি জমি। একসময় যেখানে ছিল শুধু আগাছা আর অনুর্বরতার চিহ্ন, এখন সেখানেই চোখজুড়ানো সবুজের সমারোহ। লতানো গাছে ঝুলছে সারি সারি ছোট-বড় তরমুজ। শুধু তরমুজ নয়, জমির বিভিন্ন অংশে চাষ করা হচ্ছে কাঁচামরিচ, ওলকচু, উন্নত জাতের পেঁপে, টমেটোসহ নানা ধরনের পরীক্ষামূলক ফসল। অনাবাদি সেই জমিকে ঘিরেই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছেন বাগেরহাটের তরুণ উদ্যোক্তা মো. জাকির হোসেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জমিতে একের পর এক নতুন ফসলের পরীক্ষা চালিয়ে তিনি গড়ে তুলছেন সম্ভাবনাময় একটি কৃষি উদ্যোগ। এই সবুজ আবাদই এখন তাঁর চোখে দেখাচ্ছে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন স্বপ্ন। বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের বটতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিন জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। ‘স্মার্ট বয়’, ‘সূর্য ডিম’ ও ‘কার্নিয়া’ জাতের তরমুজ চাষ করে প্রথম বছরেই পেয়েছেন আশানুরূপ ফলন। তার খেতের ফলন ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ ভিড় করছেন। এতে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও তরমুজ চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, প্রায় ৪০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি তরমুজের চারা রোপণ করেছেন জাকির। প্রতিটি গাছে দুটি করে ফল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি তরমুজ উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। তবে উন্নতমানের ও আকারে বড় ফল নিশ্চিত করতে গাছে অতিরিক্ত ফল দেখা দিলে তা অপসারণ করা হবে।

উদ্যোক্তা মোঃ জাকির হোসেন বলেন,আমি শহরে ব্যবসা করি। ব্যবসার পাশাপাশি বেমরতা বটতলা বাজার এলাকায় আমার একটি মাছের ঘের রয়েছে। ঘেরের পাশে প্রায় ৪০ শতক জমি ফাঁকা পড়ে ছিল। জমিটি কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই ইউটিউব দেখে তরমুজ চাষের ধারণা নিই। পরে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে সেখানে স্মার্ট বয়, সূর্য ডিম ও কার্নিয়া জাতের তরমুজ চাষ করি। নিয়মিত পরিচর্যায় আশানুরূপ ফলন পেয়েছি। তিনি বলেন,তিন জাতের তরমুজই বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। প্রথম বছর হিসেবে ফলন ভালো হয়েছে। চাষ থেকে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি। আমার খেত দেখে এলাকার অনেকেই তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে এ অঞ্চলে তরমুজ চাষ আরও বাড়ানো সম্ভব। তিনি আরো ও বলেন,তরমুজের পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চারপাশে কাঁচামরিচ, ওলকচু, উন্নত জাতের পেঁপে, টমেটোসহ আরও কয়েক ধরনের ফসল পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছেন জাকির। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

খেত দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,জাকির ভাইয়ের তরমুজের খেত দেখে ভালো লেগেছে। আমাদের এলাকায় এভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। জমি নির্বাচন, পরিচর্যা ও চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে আগামী মৌসুমে আমিও তরমুজ চাষ করার কথা ভাবছি।তরমুজের খেত দেখতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মিলন শেখ বলেন,তরমুজগুলো আকারে সুন্দর এবং দেখতে আকর্ষণীয়। ফলন ভালো হলে স্থানীয় বাজারেই এগুলোর চাহিদা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এ সময়ে বাজারে তরমুজের সরবরাহ কম থাকায় ভালো মানের তরমুজ পাওয়া গেলে কৃষক ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই লাভবান হবেন। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মোতাহার হোসেন বলেন,পতিত ও অব্যবহৃত জমিকে কৃষির আওতায় এনে বহুমুখী উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষকের আয়ও বাড়বে। মাছের ঘেরের পাশাপাশি ফাঁকা জমিতে জাকির হোসেনের তরমুজ চাষের উদ্যোগটি সম্ভাবনাময়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে এ ধরনের আবাদ আরও সম্প্রসারণে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখব। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জাকির হোসেনের পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগ সফল হলে বেমরতা ও আশপাশের এলাকায় অনাবাদি জমিতে তরমুজ চাষ বাড়বে। মাছের ঘেরের পাশাপাশি তরমুজ, সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের বাড়তি আয়ের নতুন দুয়ার খুলবে।